External Ad

মশল, ছায়া এবং নীরব প্রস্থান

মুনশি ফিরোজ আল মামুন:

হ্যানসেন কখনোই সময়মতো একটি নিউজরুম ছেড়ে বেরিয়ে যেতে শেখেনি।

আনুষ্ঠানিকভাবে তার ডিউটির সময় ছিল বিকেল তিনটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত। কিন্তু বাস্তবে তার জীবন শুরু হতো সকাল নয়টায় এবং গলে গিয়ে মিলিয়ে যেত মধ্যরাত পেরিয়ে কখনো বারোটা, কখনো একটার দিকে। নিউজরুমের ফ্লুরোসেন্ট আলো তাকে তার নিজের শোবার ঘরের চেয়েও ভালো চিনত। কীবোর্ডের খটখট শব্দ, বাসি কফির গন্ধ, মনিটরের অস্থির আলো—এসব তার পেশার অনুষঙ্গ ছিল না; এগুলোই ছিল তার আবাস।

সে সাংবাদিকতায় এসেছিল এমন কিছু যোগ্যতা নিয়ে, যা একসময় সত্যিই কিছু মূল্য বহন করত—ইংরেজিতে বিএ (অনার্স), এমএ, এরপর এলএলবি। শব্দ তার কাছে কেবল কাজের উপকরণ ছিল না; শব্দ ছিল তার শৃঙ্খলা। সে আইন বুঝত এমনভাবে, যেভাবে অন্যরা গুজব বোঝে, আর এমন নিখুঁতভাবে একটি বাক্য গড়তে পারত যে সম্পাদকরা আগে লেখাটাকেই লক্ষ্য করতেন, লেখককে নয়।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তার লেখা আলাদা করে চোখে পড়ত—নির্ভুল, মার্জিত, জটিলতাকে ভয় না পাওয়া। তার সম্পাদনা অসতর্ক রিপোর্টকে রক্ষা করত। তার শিরোনামগুলো ছিল ওজনদার, কিন্তু কখনো উচ্চকণ্ঠ নয়।

কিন্তু উৎকর্ষ—হ্যানসেন পরে বুঝেছিল—কখনোই নিরপেক্ষ কোনো গুণ নয়।

অতিরিক্ত কালি’র ভার

সংবাদ লেখার বাইরে গিয়েও হ্যানসেন হয়ে উঠেছিল নিউজরুমের নীরব সমস্যা-সমাধানকারী। করপোরেট প্রোফাইল যেগুলোর “পলিশ” দরকার—হ্যানসেন। বোর্ড মিটিংয়ের পাওয়ারপয়েন্ট স্ক্রিপ্ট—হ্যানসেন। বিজ্ঞাপনের কপি, যেগুলোকে বুদ্ধিদীপ্ত অথচ অনুগত শোনাতে হবে—আবারও হ্যানসেন।

অনেক রাত, যখন শহর ঘুমিয়ে পড়ত, সে বসে থাকত নিজের ডেস্কে—ভাষা গড়ে তুলত এমন সব কাজের জন্য, যেগুলোর কোনো কৃতিত্ব তার নামে আসত না, কোনো আলাদা পারিশ্রমিকও মিলত না। ডেডলাইন চাপিয়ে দেওয়া হতো, কখনো আলোচনা করা হতো না। রাত হারিয়ে যেত। সাপ্তাহিক ছুটিগুলো গলে মিলিয়ে যেত।

সাংবাদিকতা শুধু তার সময় নেয়নি—এটি তার যৌবন গ্রাস করেছিল।

শুরুর দিকে প্রশংসা ছিল আন্তরিক। সম্পাদকরা প্রকাশ্যে তার প্রশংসা করতেন। জুনিয়ররা তার ডেস্ক ঘিরে দাঁড়াত—কীভাবে একটি লিড ধারালো করতে হয়, কীভাবে যুক্তি সাজাতে হয়, কীভাবে মানহানির ঝুঁকি ছাড়াই সত্য বলা যায়—এসব শিখতে।

হ্যানসেন উদারভাবে শেখাত। সে বিশ্বাস করত, জ্ঞান ভাগ করলে তা বহুগুণে বাড়ে।

এই বিশ্বাসেরই মূল্য তাকে দিতে হয়েছিল।

সহজ সাংবাদিকতার ঘর

কিন্তু সেই ভবনে সাংবাদিকতা একা ছিল না।

কাচের পার্টিশনের আড়ালে, বন্ধ দরজার ভেতরে বসে ছিল হেনরি, জ্যাকব, শার্লো আর জেসিকা—নামে সাংবাদিক, কৌশলে টিকে থাকা মানুষ। অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হলে তাদের কীবোর্ড নীরব থাকত। কোনো টোকাটুকি শব্দ নয়, কোনো বিরক্তি নয়, কোনো খসড়া বাতিলের চিহ্নও নয়।

দশ মিনিট পর সাবমিশন ফোল্ডারে হাজির হতো দীর্ঘ, আত্মবিশ্বাসী—কিন্তু ভেতরে ফাঁপা রিপোর্ট।

চ্যাটজিপিটি হয়ে উঠেছিল তাদের ভূত-লেখক।

যখন সম্পাদক ডেনিশ ফারলো কোনো জটিল রিপোর্ট দিতেন, হ্যানসেন পার্থক্যটা স্পষ্টভাবে টের পেত। তার নিজের স্ক্রিন ভরে যেত সংশোধন, সূত্র যাচাই আর পুনর্লিখনে। অন্যদের ডেস্ক থাকত শান্ত, অচল—যেন অটোমেশনের উপাসনালয়।

খাঁটি রিপোর্টিং তখন হয়ে উঠেছিল অসুবিধা; গতি ছিল মুদ্রা, আর সততা ছিল বোঝা।

হ্যানসেন চাপ অনুভব করত—ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে নয়, বরং সহকর্মীদের নীরব বিরক্তি থেকে, যাদের শর্টকাট তার নিষ্ঠার কারণে প্রকাশ পেয়ে যেত। তার উপস্থিতি ছিল এমন এক আয়না, যার দিকে তারা তাকাতে চাইত না।

সিলিকা ও উৎকর্ষের মূল্য

সিলিকা সেই আয়নাটিকে ভালোভাবেই বুঝত।

সে লন্ডন থেকে একটি পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি নিয়ে ফিরেছিল, সঙ্গে ছিল নিজের কাজের প্রতি অটল আত্মবিশ্বাস। তার লেখা ছিল ধারালো, ক্যাপশনগুলো চিন্তাশীল, নৈতিকতা ছিল আপসহীন। সে দ্রুত এগিয়েছিল—এবং তার মূল্যও দিয়েছিল।

নিউজরুমের সার্ভার, যা সহযোগিতার জন্য তৈরি হয়েছিল, সেটাই হয়ে উঠেছিল অস্ত্র। অজ্ঞাত হাত তার শিরোনাম বদলে দিত, লিড দুর্বল করত, সূক্ষ্ম ভুল ঢুকিয়ে দিত—এমন ছোট যে সহজে ধরা পড়ে না, আবার এমন ক্ষতিকর যে সন্দেহ জন্ম দেয়।

ফিসফাস শুরু হয়। সন্দেহ ঢুকে পড়ে।

হ্যানসেন লক্ষ্য করেছিল। সে প্রতিবাদ করেছিল। সে প্রমাণ নথিভুক্ত করেছিল।

কিন্তু সে বুঝেছিল—সমন্বিত বিদ্বেষের বিরুদ্ধে পেশাদারিত্বের কোনো ঢাল নেই।

পতনের আগের প্রশংসা

এক বিকেলে, পত্রিকার মালিক ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে সম্পাদক ডেনিশ ফারলো প্রকাশ্যে হ্যানসেনের প্রশংসা করেন।

“তার লেখাই আমাদের মান নির্ধারণ করে,” তিনি বলেছিলেন। “তার সম্পাদনাই আমাদের উদ্ধার করে।”

সেদিন হ্যানসেন এমন কিছু অনুভব করেছিল, যা বিরল—স্বীকৃতি।

পনেরো দিনের মাথায়, হ্যানসেন এবং সিলিকা—দুজনকেই বরখাস্ত করা হয়।

কোনো সতর্কতা নেই। কোনো পারফরম্যান্স রিভিউ নেই। এমনকি ব্যাখ্যাও নেই, যাকে ব্যাখ্যা বলা যায়।

হ্যানসেন ও সিলিকার প্রতি বৈষম্য ও অন্যায় আচরণের প্রতিবাদে প্রায় ২৩ জন শীর্ষ ও মেধাবী সাংবাদিক অবস্থান নেন—এবং তারাও বরখাস্ত হন।

নিউজরুম একটি নির্মম শিক্ষা পায়: ভিন্নমত সহ্য করা হবে না, মেধা রক্ষা করা হবে না।

মেধা হেরে গিয়েছিল।

কর্পোরেট ছায়া

পর্দার আড়ালে কাজ করছিল এক করপোরেট কর্মকর্তা, যাকে মূল কোম্পানি থেকে সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও রেডিওসহ মিডিয়া অপারেশনের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিকতায় তার কোনো পটভূমি ছিল না। আরও ভয়াবহ—ইংরেজিতে কার্যকর দখলও ছিল না। তবু ক্ষমতা তাকে দ্বিতীয় চামড়ার মতো জড়িয়ে ধরেছিল। তার নাম ছিল ম্যানকিন ডেভিল।

মূল করপোরেট হাউসের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর কখনোই নিউজরুমে আসতেন না। তারা নির্ভর করতেন রিপোর্ট, গুজব আর যত্ন করে বানানো বয়ানের ওপর। সত্য ছিল আউটসোর্স করা, জবাবদিহি ছিল ঐচ্ছিক।

এই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের ডেকে আনত অপরাধীর মতো। দরজায় মোবাইল জমা দিতে হতো। কণ্ঠ উঁচু হতো। অপমান ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।

সে দ্বিতীয় সারির অনুগতদের ক্ষমতাবান করত, প্রধান সম্পাদকদের দুর্বল করত, দক্ষতার চেয়ে আনুগত্যকে পুরস্কৃত করত। নৈতিকতার জায়গা দখল করেছিল কৌশল।

অভিযুক্ত ছাড়া বৈঠক

এক সকালে সব সেকশন প্রধানকে জরুরি ভিত্তিতে ডাকা হলো।

কোনো এজেন্ডা নেই। কোনো ইঙ্গিত নেই।

পৌঁছানোর পরেই তারা জানতে পারল—মিটিংটি ব্যবসা পাতার একটি ভুল নিয়ে। নির্মম বিদ্রূপ এই যে, যার ভুল ছিল, তাকেই ডাকা হয়নি।

ঘরে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়লে করপোরেট কর্মকর্তা ইংরেজিতে একটি ব্যাখ্যা দাবি করলেন।

তিনি হ্যানসেনকে সেটি লিখতে নির্দেশ দিলেন।

হ্যানসেন নির্দেশ মানল। নির্ভুলতা ছিল তার অভ্যাস। সে ঘটনাটি ব্যাখ্যা করল, দায়িত্বের প্রেক্ষাপট তুলে ধরল, সম্পাদকীয় কর্মপ্রবাহ স্পষ্ট করল।

কর্মকর্তা ত্রিশ মিনিট ধরে লেখাটি পড়লেন।

তারপর খুব শান্তভাবে একটি ইংরেজি শব্দের অর্থ জানতে চাইলেন।

ঘরের সবাই একসঙ্গে সবকিছু বুঝে ফেলল।

যে সীমারেখা অতিক্রম করা উচিত নয়

পতন দ্রুততর হলো।

এক বিকেলে করপোরেট কর্মকর্তা গ্রুপের সব অনলাইন পোর্টালের প্রধানদের আন্তর্জাতিক সংস্থায়—ইন্টারপোলসহ—নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে চিঠি লিখতে নির্দেশ দিলেন। নির্দেশটি ছিল বেআইনি। ডেডলাইন ছিল অবাস্তব।

প্রধানরা দ্বিধায় পড়লেন। তারা সম্পাদকদের কক্ষে আশ্রয় খুঁজলেন।

দরজা বন্ধ রইল।

নেতৃত্বের জায়গা দখল করেছিল ভয়।

পরে কর্মকর্তা একে একে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের ডেকে নিলেন—ডিভাইস কেড়ে নেওয়া হলো, মর্যাদা ছিনিয়ে নেওয়া হলো, কণ্ঠ রোধ করা হলো। এরপর শুরু হলো গালাগাল।

তারপর এলো শেষ পরীক্ষা।

হ্যানসেনকে ইংরেজি দৈনিকের প্রধান সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখতে বলা হলো।

সে অস্বীকার করল।

এই অস্বীকৃতির জন্য তার এক মাসের বেতন কেটে নেওয়া হলো। হয়রানি বেড়ে গেল। একঘরে করে রাখা হলো।

ফাঁদ

পরবর্তীতে হ্যানসেন ছয় মাসের জন্য অনলাইন প্রধানের দায়িত্ব নিলে আরেকটি নির্দেশ এলো—একজন অধস্তন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বারবার ভুল করার অভিযোগে শোকজ নোটিশ দিতে হবে।

এই ভুলগুলো ঘটেছিল তিনবার—হ্যানসেন দায়িত্ব নেওয়ার আগেই।

নির্দেশ মানতে বাধ্য হয়ে সে নোটিশ দিল।

এরপর করপোরেট কর্মকর্তা অভিযুক্ত সাংবাদিককে আলাদাভাবে ডেকে এনে তাকে শেখাল—কীভাবে জবাবে হ্যানসেনকে দোষী দেখাতে হবে, যেন বলা যায় নতুন সেকশন প্রধান দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ বাস্তবতা ছিল, ভুলগুলো হয়েছিল হ্যানসেনের সময়ের আগেই।

এদিকে ম্যানকিন ডেভিল নিজের ক্ষমতার সীমা ভুলে গিয়েছিল। এক মধ্যরাতে ম্যানেজিং ডিরেক্টর নীরবে মিডিয়া কমপ্লেক্সে এলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, “তুমি কেন আমার প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতি করছ?” প্রথমে ম্যানকিন অস্বীকার করল। পরে এমডি প্রমাণের কথা বললে সে জানাল—মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ, তাই কোনো প্রমাণ নেই।

চাপ বাড়লে ম্যানকিন ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বলল, “এগুলো আমার প্রতিষ্ঠান… আমার সিদ্ধান্ত।”

এমডি ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে ঘুষি মারলেন। প্রায় ১৫০ কেজি ওজনের ম্যানকিন পাশের একটি খালে পড়ে গেল। পানি ছিল ঠান্ডা। সে কাঁদছিল, পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করল।

ফাঁদটি ছিল নিখুঁত।

নীরব প্রস্থান

হ্যানসেন তখন বুঝে গিয়েছিল—এই ভবনে সে যে সাংবাদিকতাকে চিনত, তার আর অস্তিত্ব নেই।

সে চিৎকার করেনি। সে ভিক্ষা চায়নি।

সে পড়াশোনা শুরু করল।

পিএইচপি। লারাভেল। ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট। ডিজিটাল মার্কেটিং। এমন সব ব্যবস্থা, যেখানে তোষামোদ নয়, যুক্তি মূল্য পায়। যেখানে আনুগত্যের চেয়ে আউটপুট গুরুত্বপূর্ণ। যে রাতগুলো একসময় অন্যের বিকৃতি ঠিক করতে কেটেছিল, সেগুলো এখন বিনিয়োগ হলো কিছু বাস্তব গড়ে তোলার কাজে।

পরিবর্তন সহজ ছিল না—কিন্তু ছিল সৎ।

বরখাস্তের চিঠি হাতে নিয়ে হ্যানসেন অফিসের বেরোনোর পথে এক কোণে বসে পড়েছিল। চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়ছিল। পেছন থেকে সিলিকা তার কাঁধে হাত রাখল।

“কে?” সে জিজ্ঞেস করল।

“আমি,” সিলিকা বলল। সে তাকে সান্ত্বনা দিল, ভেঙে না পড়তে অনুরোধ করল। তারা কর্মস্থলে পারফরম্যান্সের জায়গা দখল করা ষড়যন্ত্র নিয়ে কথা বলল।

বাড়ি ফিরে হ্যানসেন বেকারত্বের ভার অনুভব করল। সে আইটি ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইট ঘাঁটতে লাগল—ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, পিএইচপি, লারাভেল, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ নানা কোর্স আবিষ্কার করল।

সেই রাতে সে স্বপ্ন দেখল—একটি অবয়ব তাকে আইটির পথে ডাকছে, এমন এক জগতে যেখানে প্রযুক্তি আর উদ্ভাবন শাসন করে, আর কর্মক্ষেত্রের ষড়যন্ত্রের কোনো স্থান নেই।

“দূর থেকে কে আমাকে ডাকছে?” সে উচ্চস্বরে জিজ্ঞেস করল। অবয়বটি মিলিয়ে গেল।

পরদিন সে ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট কোর্সে ভর্তি হলো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে পিএইচপি, লারাভেল, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন ও ডাটা এন্ট্রিতে দক্ষ হয়ে উঠল।

হ্যানসেন বদলে গিয়েছিল।

একটি ডিজিটাল ভোর

হ্যানসেন আর শুধু একজন সাংবাদিক ছিল না।

সে ছিল গীতিকার, সুরকার ও গায়কও। সে ইংরেজি গান লিখত, সুর করত, সফটওয়্যারের মতো নিখুঁতভাবে কোডিফাই করত, আর নিজেই গাইত। এসব গানের অনেকগুলোই ছিল সিলিকার উদ্দেশে লেখা সুরের চিঠি—যেখানে শব্দ আর সঙ্গীত বহন করত সেই অনুভূতি, যা সাংবাদিকতা আর ধরে রাখতে পারেনি।

প্রযুক্তি হয়ে উঠেছিল তার নতুন ভাষা। উদ্ভাবন, তার নতুন স্বাধীনতা। প্রতিটি কোডের লাইন প্রতিস্থাপন করত একটি আপসকৃত বাক্যকে; প্রতিটি সিস্টেম হয়ে উঠত এমন এক সম্পাদক, যে কার্যকারিতার মধ্য দিয়েই সত্যকে মূল্য দেয়।

সিলিকা—এখন আর শুধু স্মৃতি নয়—ছিল প্রেরণা। তার সততা, তার সাহস, তার না-বাঁকার সিদ্ধান্ত হ্যানসেনের স্থায়ী সঙ্গী হয়ে রইল।

তারা আর একই নিউজরুম ভাগ করে নিত না, কিন্তু একই আদর্শের পথে হাঁটত।

নিউজরুমের আলো পেছনে এখনো ঝিমঝিম করত। কীবোর্ড এখনো গুনগুন করত। চ্যাটজিপিটি এখনো তাদের জন্য গল্প লিখত, যারা কখনো লিখতে শেখেনি।

কিন্তু সামনে ছিল ভোর—একটি ডিজিটাল ভোর।

এবং সেই ভোরে, হ্যানসেন হাঁটে নিশ্চিন্তে—কারণ তার সঙ্গে আছে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, এবং সিলিকার অনুপ্রেরণা—চিরসঙ্গী হয়ে।

No comments: